জিন তাড়াতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে নির্যাতন,দুই শিক্ষক গ্রেফতার
গৌরীপুর প্রতিনিধি:
তরিকুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে
ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল আলীম ও মোঃ ইউসুফ জিন তাড়ানোর নামে ৭দিন ধরে
আটক করে বেধড়ক পিটিয়ে, জ্বলন্ত কুন্তির ছ্যাঁকা ও মোমবাতির আগুন দিয়ে দু'টি আঙ্গুল পুড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার
মইলাকান্দা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজারে আল মাসরাতুল আহলিয়া দারুল উলুম ফারুকীয়া মাদ্রাসায়।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রতিবাদের
মুখে শুক্রবার পুলিশ নির্যাতিত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার ও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, মামলা ও এলাকাবাসী
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দপুর বাজারে আল মাসরাতুল আহলিয়া দারুল উলুম ফারুকীয়া
মাদ্রাসায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলার বাইঞ্জা গ্রামের মোঃ মহরম আলীর পুত্র আতিকুল
ইসলাম (৮) এক বৎসর পূর্বে ভর্তি হয়ে হোস্টেলে থাকত।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে
আতিকুল ইসলাম তার মাকে দেখতে পায়। মাকে দেখে হঠাত্ চিত্কার দিয়ে উঠে। এরপরেই দু'শিক্ষক নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ ইউসুফ
(২৫) ও কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল আলিম (২৭) প্রচার
করেন যে, তাকে জ্বিনে আছর করেছে। ওই রাত থেকে শুরু হয় আতিকুলের ওপর জ্বিন তাড়ানোর বর্বরোচিত
নির্যাতন। মোমবাতি জ্বালিয়ে বাম হাতের কনিষ্ঠ ও তর্জুনী আঙ্গুল পুড়িয়ে দেয়া হয়। জ্বিন তাড়াতে কুন্তি
গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়া হয়।
আতিকুলের বড় ভাই দেখতে গিয়ে তার উপর নির্যাতনের
চিহ্ন দেখে পিতাকে ফোন করেন। ফোনে খবর পেয়ে ছুটে আসেন আতিকুলের বাবা মহরম আলী। শুক্রবার সকালে আতিকুলের
শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে ফুঁসে উঠে গ্রামবাসী ও অভিভাবকরা।
গৌরীপুর থানার এসআই নূর হোসেন ঘটনাস্থল
গিয়ে বন্দীশালা থেকে নির্যাতিত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার ও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেন।