WELCOME TO NANDAIL NEWS - REFLECTION OF TIME - স্বাগতম- নান্দাইল নিউজ - সময়ের প্রতিচ্ছবি - স্বাগতম- নান্দাইল নিউজ -সময়ের প্রতিচ্ছবি - স্বাগতম- নান্দাইল নিউজ - সময়ের প্রতিচ্ছবি - স্বাগতম- নান্দাইল নিউজ -সময়ের প্রতিচ্ছবি - স্বাগতম- নান্দাইল নিউজ - সময়ের প্রতিচ্ছবি - স্বাগতম- নান্দাইল নিউজ - সময়ের প্রতিচ্ছবি

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০১৫

মুক্তাগাছায় জমিদার পরিবারের সংসার চলে সুপারি বেচে !

স্টাফ রিপোর্টার ●  নান্দাইল নিউজ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক জমিদার পরিবারের আজ পথে বসার উপক্রমমুক্তাগাছাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের জমিদারির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও সবই আজ বেদখলেজমিদারের দুই নাতনির লেখাপড়া চলছে কলেজ কর্তৃপক্ষের দয়ায়সংসার চলছে সুপারি, নারিকেল বিক্রি করে

জানা যায়, মুক্তাগাছার প্রখ্যাত জমিদার বকুল কিশোর আচার্য চৌধুরীকে (ডাবল এমএ) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা ধরে নিয়ে যায় এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মমভাবে গুলি করে তাকে মারে পাক হানাদার বাহিনীএরপর তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সবই একে একে বেদখল হয়ে যায়জমিদার বকুল কিশোর আচার্য চৌধুরীর বাড়িটি সরকার অধিগ্রহণ করে নেয়বর্তমানে জমিদার বাড়িটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে

জমিদার বকুল কিশোর আচার্য চৌধুরীর পুত্র দেবাশীষ আচার্য চৌধুরী (টুবলু) ২০০২ সালে স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে পরলোক গমন করেনটুবলুর মৃত্যুর পর তার পরিবারে নেমে আসে অভাবশ্বশুরের জমিদারির শেষচিহ্ন জীর্ণ এক কাচারি বাড়িতে নিদারুণ অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন টুবলুর স্ত্রী শিপ্রা আচার্য চৌধুরী (৫০) তার মেঝ মেয়ে দিপাঞ্জনা আচার্য চৌধুরী (আনন্দ মোহন কলেজের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্রী) ও ছোট মেয়ে দেবজানী আচার্য চৌধুরী পিয়ালকে (হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী) নিয়েশহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে পড়ুয়া বড় মেয়ে অর্পিতা আচার্য চৌধুরী বিয়ের পর স্বামীর সাথে বর্তমানে দিনাজপুরে বসবাস করছেনশিপ্রা আচার্য চৌধুরী দুঃখ করে বলেন, বলতে লজ্জা লাগে আমরা এখন নামেই জমিদার পরিবারসংসার চলছে ভাঙ্গা কাচারি বাড়ির গাছের  সুপারি, নারিকেল বিক্রি করেদুবেলা দুমুঠো অন্নই যেখানে জুটছে না, সেখানে আবার মেয়েদের লেখাপড়াহাজী কাশেম আলী কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের আর্থিক দৈন্যতার কথা বিবেচনা করে ছোট মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ফ্রি করে দিয়েছেঅপরের দয়া-দাক্ষিণ্যে আমাদের চলতে হবে তা কোনদিনই ভাবিনিএখনো আমাদের যে সম্পত্তি আছে তা দিয়ে ভালোই চলতে পারতাম  কিন্তু সবই বেদখলে থাকায় সে সুবিধাটুকু থেকেও আমরা বঞ্চিত

তিনি জানান, সরকার ১৯৭৫ সালে আমাদের বাড়িসহ (বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প) ৪ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেমূল্য নির্ধারণ করে সাড়ে ৩ লাখ টাকাসেই টাকা আমার স্বামীর নামে বরাদ্দ হয়েছেকিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আজো সেই টাকা আমরা পাইনিময়মনসিংহ ভূমি অধিগ্রহণ অফিস আমার স্বামীর নামে চিঠি দিয়েছে যেটি এখনো অবমুক্ত হয়নিতিনি বলেন, গত এক বছর ধরে অফিসে ঘোরাফেরা করে যাচ্ছিটাকা পাচ্ছি নাযথাসময়ে টাকাগুলো পেলে আমাদের খুবই উপকারে আসতো

শিপ্রা আচার্য চৌধুরী বলেন, ময়মনসিংহের ভালুকা, গফরগাঁও, গাজীপুর, জয়দেবপুর, বগুড়া, বরিশাল, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে এখনো আমাদের ভূ-সম্পত্তি রয়েছেসেগুলোর দখলদারগণ আমার কাছে আসেনতারা নগদ টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চানকিন্তু আমি টাকা নেই নাস্বাক্ষরও দেই নাআমি তাদের বলি, তোমরা আমাদের নামে ঝামেলামুক্ত কাগজ তৈরি করে নিয়ে আসো, তারপর বিক্রির কথা ভাববোনা বুঝে না জেনে স্বাক্ষর দিলে ঝামেলা হবে বলে মনে করিআমি চাই না জমিদার বংশের উপর কোন কালিমা লেপন করতেসরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে -এটাই প্রত্যাশা তার